ব্যাংকে নয় ! টাকা দিয়ে টাকা বানানোর ৩ টি সেরা উপায় | ‌3 Assets That Are Better Than Cash! | Bank

ব্যাংকে নয় ! টাকা দিয়ে টাকা বানানোর ৩ টি সেরা উপায় | ‌3 Assets That Are Better Than Cash! | Bank

 


টাকা দিয়ে টাকা বানান: ব্যাংকের চেয়েও হাজার গুণ বেশি লাভজনক ৩টি অ্যাসেট

ভূমিকা: কেন ৯৯% মানুষ গরীব?

পৃথিবীর ৯৯ ভাগ সম্পদের মালিক কেন মাত্র এক ভাগ মানুষ? এই প্রশ্নের উত্তরে বেশিরভাগ মানুষ ভাগ্য বা জন্মগত সুবিধাকেই কারণ হিসেবে দেখান। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ধনী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো তাদের আর্থিক কৌশল। বিশ্বখ্যাত লেখক রবার্ট কিওসাকির একটি বিখ্যাত উক্তি আছে: "ধনীরা টাকার জন্য কাজ করে না বরং টাকা তাদের জন্য কাজ করে।"

এর পেছনের গোপন রহস্য হলো 'অ্যাসেট' বা সম্পদ তৈরি করা। অ্যাসেট হলো এমন কিছু যা আপনার পকেটে টাকা নিয়ে আসে, পরিশ্রম ছাড়াই। আর এটি শুধু মুখের কথা নয়; ২০০১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত অ্যাসেটের উপর প্রকাশিত ৩৪৩৮টি আর্টিকেল বলছে, ধনীদের আরও ধনী হওয়ার পেছনে মূল চালিকাশক্তি হলো এই অ্যাসেট। এই প্রবন্ধে আমরা বর্তমান সময়ে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী তিনটি অ্যাসেট আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করবো, যা আপনাকে আর্থিক স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিতে পারে।

ব্যাংকে টাকা জমানো কেন একটি ভুল সিদ্ধান্ত?

অ্যাসেট তৈরির পথে যাওয়ার আগে বোঝা দরকার, প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী ব্যাংকে টাকা জমানো কেন একটি ভুল কৌশল। এর পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে।

১. ব্যাংকের দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকি: বাংলাদেশে ব্যাংক ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স অ্যাক্ট ২০০০ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যাংক দেউলিয়া বা ব্যর্থ হয়, তবে একজন আমানতকারী তার জমাকৃত কোটি টাকা থেকেও সর্বোচ্চ মাত্র ৳১ লক্ষ টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা পান। এই অঙ্কটি পুরো দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন। পূর্বের কিছু তথ্যে এই সীমা আড়াই লাখ বলা হলেও, সম্প্রতি তা কমিয়ে এক লাখ করা হয়েছে।

২. মুদ্রাস্ফীতির কারণে টাকার মান কমে যাওয়া: ব্যাংকে রাখা টাকা সংখ্যার দিক থেকে বাড়লেও এর ক্রয়ক্ষমতা দিন দিন কমতে থাকে। আজকের ৳১ লক্ষ টাকা ১০ বছর পর মুদ্রাস্ফীতির কারণে মাত্র ৳৫০,০০০ থেকে ৳৬০,০০০ টাকার সমান ক্রয়ক্ষমতা রাখবে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৭২ সালে যেখানে এক ডলারের দাম ছিল ৳৭.৭৬, আজ তা বেড়ে ৳১২১ হয়েছে। এর অর্থ, আপনার জমানো টাকা ব্যাংকে অলস পড়ে থেকে প্রতিনিয়ত তার মূল্য হারাচ্ছে।

যেখানে ব্যাংক আপনার টাকাকে ক্ষয় করে, সেখানে সঠিক অ্যাসেট আপনার টাকাকে বহুগুণে বৃদ্ধি করতে পারে। চলুন, এমনই একটি নির্ভরযোগ্য অ্যাসেট দিয়ে শুরু করা যাক।

--------------------------------------------------------------------------------

১. জমি বা রিয়েল এস্টেট: সম্পদ তৈরির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি

সম্পদ তৈরির সবচেয়ে পুরোনো এবং নির্ভরযোগ্য উপায়গুলোর একটি হলো জমি বা রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ। এটি শুধু একটি নিরাপদ বিনিয়োগই নয়, সময়ের সাথে সাথে এর মূল্যবৃদ্ধির হার অবিশ্বাস্য।

  • ডেটা-ভিত্তিক প্রমাণ: পরিসংখ্যান দেখলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে:
    • সুন্দরবনের উপকূলীয় এলাকার জমির দাম গত ৫ বছরে ৩ গুণ বেড়েছে।
    • রাস্তার পাশের জমির দাম ১০ বছরে ১০ গুণ পর্যন্ত বাড়তে দেখা গেছে।
    • ২০০৯ সালে ঢাকার আবাসিক এলাকায় যে জমির দাম প্রতি কাঠা ৳৬ লক্ষ ছিল, ২০১৯ সালে সেই জমির দাম ৳৫০ লক্ষে পৌঁছে যায়।
  • ভাড়ার মাধ্যমে আয়: জমির মূল্যবৃদ্ধি ছাড়াও রিয়েল এস্টেট থেকে ভাড়ার মাধ্যমে নিয়মিত আয়ের একটি শক্তিশালী উৎস তৈরি হয়। প্রথম আলোর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৫ বছরে ঢাকায় বাড়ি ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৪০০%, যেখানে একই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েছে মাত্র ২০০%। ২০০৫ সালে যে মাহমুদ সাহেব ৳৪,০০০ টাকায় বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন, আজ তাকে সেই বাসার জন্য ৳১৮,০০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়।
  • বিশেষজ্ঞের মত: সম্পদ তৈরির এই পরীক্ষিত পদ্ধতি নিয়ে একজন বিশেষজ্ঞের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
  • কিভাবে শুরু করবেন: জমি কিনতে বড় অঙ্কের টাকা লাগে, যা অনেকের জন্যই একটি চ্যালেঞ্জ। এর একটি কার্যকরী সমাধান হলো, তিন-চারজন বিশ্বস্ত বন্ধু মিলে একটি টিম তৈরি করে ‘ভাগে জমি কেনা’। ঠিক কোরবানির সময় আমরা যেমন ভাগে কোরবানী করি, এতে মাংস হয়তো কম আসে কিন্তু খুশি বহুগুণ বেড়ে যায়। তেমনিভাবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রাথমিক বিনিয়োগের চাপ কমে এবং লাভজনক জমি কেনা ও বিক্রি করা সহজ হয়।

২. সোনা: ঈশ্বরের মুদ্রা যা সময়ের সাথে মূল্য বাড়ায়

সোনা বা গোল্ড এমন একটি অ্যাসেট যা হাজার হাজার বছর ধরে নিজের মূল্য ধরে রেখেছে এবং সময়ের সাথে সাথে এর দাম কেবল বেড়েই চলেছে।

  • ঐতিহাসিক রিটার্ন: বাংলাদেশে সোনার দাম বৃদ্ধির হার এক কথায় অবিশ্বাস্য। মুক্তিযুদ্ধের সময় এক ভরি সোনার দাম ছিল মাত্র ৳১৭০। ৫৪ বছর পর আজ সেই এক ভরি সোনার দাম ৳১,৮৬,০০০ টাকা, যা প্রায় ১০৯৩ গুণ বেশি। এর মানে হলো, কেউ যদি তখন ৳১ লক্ষ টাকা সোনায় বিনিয়োগ করতেন, আজ তার সম্পদের পরিমাণ হতো ৳১০.৯৩ কোটি টাকা। বিষয়টি আরও সহজে বুঝতে, ভাবুন তো, আপনার বাবা যদি তখন মাত্র ৳১ হাজার টাকা স্বর্ণে বিনিয়োগ করতেন, তবে আজ তার মূল্য হতো ৳১০ লাখ ৯৩ হাজার।
  • কেন সোনা এত মূল্যবান: 'রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড' বইয়ের লেখক রবার্ট কিওসাকি সোনাকে ‘ঈশ্বরের মুদ্রা’ বা 'God's Money' বলেছেন।
  • তার যুক্তি হলো, সরকার ইচ্ছে করলেই কাগজের টাকা ছাপিয়ে এর সরবরাহ বাড়াতে পারে, যার ফলে মুদ্রার মান কমে যায়। কিন্তু মানুষ কৃত্রিমভাবে সোনা তৈরি করতে পারে না। এর সীমিত সরবরাহ এবং দীর্ঘস্থায়ী চাহিদার কারণেই সোনা একটি নির্ভরযোগ্য অ্যাসেট।
  • সতর্ক বার্তা: বিশেষ করে তরুণদের জন্য, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ফটকাবাজিপূর্ণ ট্রেডিংয়ের মতো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে গভীর জ্ঞান ছাড়া বিনিয়োগ করার চেয়ে সোনায় বিনিয়োগ করা অনেক বেশি নিরাপদ ও স্থিতিশীল একটি সিদ্ধান্ত। শুধুমাত্র সরকার এবং ভাগ্যকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, নিজের মেধা এবং বিচারবুদ্ধি দিয়ে কিছু করে সবাইকে নিজের অস্তিত্বের জানান দিন।

৩. আপনি নিজে: আপনার সেরা এবং সবচেয়ে মূল্যবান বিনিয়োগ

জমি বা সোনার চেয়েও শক্তিশালী এবং লাভজনক একটি অ্যাসেট আছে, আর সেটি হলেন আপনি নিজে। এটি এমন একটি অ্যাসেট যেখানে আপনি লক্ষ কোটি টাকা থেকে শুরু করে মাত্র ৳১০০ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবেন। আজকের জ্ঞান-ভিত্তিক অর্থনীতিতে আপনার দক্ষতা এবং জ্ঞানই আপনার সবচেয়ে বড় সম্পদ, যা আপনাকে ভবিষ্যতে অন্য সব অ্যাসেট কেনার পুঁজি এনে দেবে।

  • বাস্তব উদাহরণ: আমাদের দেশেই এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যারা নিজেদেরকে অ্যাসেট হিসেবে তৈরি করে শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছেছেন:
    • আকিজউদ্দিন: মাত্র ১৭ টাকা দিয়ে চানাচুর বিক্রি শুরু করে তিনি ৫০০০ কোটি টাকার বিশাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
    • ফজলুর রহমান: ৪২ টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করে তিনি সিটি গ্রুপসহ ৪০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক হন।
    • নাজমুল: ধার করা একটি মডেম দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করে তিনি দেশের সেরা ফ্রিল্যান্সার হন এবং প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের জীবন বদলে দিয়েছেন।
  • কর্ম পরিকল্পনা: আপনার হাতে যদি ৳৫০,০০০ টাকা থাকে, তবে তা দিয়ে একটি নতুন দক্ষতা অর্জনের জন্য কোর্স করুন। যদি ৳১০০ টাকা থাকে, তবে একটি আত্ম-উন্নয়নমূলক বই কিনুন। এই বিনিয়োগই আপনাকে ভবিষ্যতে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করার পথ তৈরি করে দেবে। দক্ষতা অর্জনের পর সেই আয় দিয়ে আপনি জমি এবং সোনার মতো অ্যাসেটে বিনিয়োগ করতে পারবেন।
  • চূড়ান্ত বার্তা: মনে রাখবেন, আপনার শেখার আগ্রহই আপনার আয়ের পথ প্রশস্ত করবে।

এই পথেই আপনি সেই পুঁজি তৈরি করবেন যা দিয়ে ভবিষ্যতে জমি বা সোনার মতো টেকসই সম্পদে বিনিয়োগ করে আপনার আর্থিক ভিত্তিকে চিরস্থায়ী রূপ দিতে পারবেন।

শেষ কথা: আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

প্রকৃত সম্পদ ব্যাংকে টাকা জমিয়ে তৈরি হয় না, বরং এমন অ্যাসেটে বিনিয়োগ করে তৈরি হয় যা সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পায় এবং আপনার জন্য আয় তৈরি করে। জমি, সোনা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, আপনার নিজের দক্ষতা—এই তিনটিই হলো সেই শক্তিশালী অ্যাসেট যা আপনাকে আর্থিক মুক্তি দিতে পারে।

আজ আপনি আপনার উপার্জিত অর্থ দিয়ে কোন অ্যাসেটটি তৈরি করার কথা ভাবছেন?



ব্যাংকে নয় ! টাকা দিয়ে টাকা বানানোর ৩ টি সেরা উপায় | ‌3 Assets That Are Better Than Cash! | Bank





এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url