নতুন ব্যবসা শুরু করার আগে ভিডিওটি একবার দেখুন! | How to start A Business

 

নতুন ব্যবসা শুরু করার আগে ভিডিওটি একবার দেখুন! | How to start A Business


ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা: ব্যবসা শুরুর যে ৪টি মূলনীতি আপনার জানা আবশ্যক

একটি সাধারণ স্বপ্ন এবং এক কঠিন বাস্তবতা

বাংলাদেশে আমাদের মধ্যে হাজারো মানুষের স্বপ্ন থাকে নিজের একটি ব্যবসা শুরু করার। কিন্তু স্বপ্ন দেখা যত সহজ, তাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে টিকিয়ে রাখা ততটাই কঠিন। গবেষণা করলে দেখা যায়, বেশিরভাগ নতুন ব্যবসাই বছর ঘোরার আগে বন্ধ হয়ে যায়।

এই কঠিন বাস্তবতার এক চমৎকার উদাহরণ উদ্যোক্তা ফাইয়াজ ফয়সাল। তিনি দুটি ব্যবসায়ে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনটি সফল উদ্যোগ দাঁড় করিয়েছেন এবং এখন তাঁর ষষ্ঠ ব্যবসা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রার ভুল এবং শিক্ষা থেকেই আজকের এই লেখা। তাঁর নতুন ব্যবসার ক্ষেত্রে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যে চারটি মূলনীতি অনুসরণ করছেন, সেগুলোই আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আশা করি, এই নীতিগুলো আপনার ব্যবসাকেও একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে সাহায্য করবে।

--------------------------------------------------------------------------------

মূলনীতি ১: শুধু ভাবনাই যথেষ্ট নয়, দরকার ইস্পাত-কঠিন সিদ্ধান্ত

ব্যবসা করার কথা মাথায় আসা আর ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া—দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। ব্যবসা শুরুর প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো একটি দৃঢ়, ইস্পাত-কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যে, "আমি এই ব্যবসা করবই"। এই সিদ্ধান্তের সাথে দুটি বিষয় অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত: ডিসিপ্লিন (শৃঙ্খলা) এবং কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি)। মনে রাখবেন, আপনি যদি আপনার কমিটমেন্ট রক্ষা করতে পারেন, তাহলে পুঁজি না থাকলেও ব্যবসা করতে পারবেন।

উদ্যোক্তার মনোভাব মানে হলো, সিদ্ধান্তে অটুট থাকা। ব্যবসায় লাভ হোক বা লস, পার্টনার ছেড়ে যাক বা নতুন কেউ আসুক, আপনার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে না। আপনি কাজটা চালিয়ে যাবেনই। এই সিদ্ধান্তের সাথে ফাইয়াজ ফয়সাল আধ্যাত্মিক শক্তিকেও যুক্ত করেন, যাকে বলে তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর উপর ভরসা।

"সূরা তালাকে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন যে আল্লাহর উপরে ভরসা রাখে তার জন্য মহান আল্লাহ তাআলাই যথেষ্ট তাই সিদ্ধান্ত প্লাস তাওয়াক্কুল সমান সমান উদ্যোক্তার প্রথম শক্তি।"

মূলনীতি ২: ক্ষণিকের লাভ নয়, ৫-১০ বছরের টেকসই পণ্যই আসল শক্তি

সঠিক পণ্য নির্বাচন একটি ব্যবসার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ফাইয়াজ ফয়সালের যে ব্যবসাগুলো ব্যর্থ হয়েছিল, তার প্রধান কারণ ছিল প্রোডাক্ট রিসার্চের অভাব। অন্যদিকে, তাঁর সফল ব্যবসাগুলোর পেছনে ছিল সঠিক ও গভীর গবেষণা।

এমন একটি পণ্য খুঁজে বের করুন যা আপনি আগামী ৫ থেকে ১০ বছর ধরে বিক্রি করতে পারবেন এবং যেখানে একটি সম্মানজনক লাভের সুযোগ থাকবে। শুধুমাত্র অতিরিক্ত লাভের দিকে ছুটলে সেই ব্যবসা বেশিদিন টেকসই হয় না। তাই লাভ এবং দীর্ঘস্থায়ীত্ব—দুটোর মধ্যে ভারসাম্য আনা জরুরি। মনে রাখবেন, বাংলাদেশের জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩২%। এর মানে হলো, ছোট ও মাঝারি ব্যবসার সম্ভাবনা বিশাল, যদি শুরুটা সঠিক হয়।

মূলনীতি ৩: সব টাকা পণ্যের পেছনে নয়, বাজেট হোক পাঁচ ভাগে বিভক্ত

নতুন উদ্যোক্তারা যে ভুলটি সবচেয়ে বেশি করেন, তা হলো সব পুঁজি দিয়ে পণ্য কিনে ফেলা। ফাইয়াজ ফয়সাল নিজেও এই ভুলের কারণে শুরুতে অনেক ভুগেছেন। হাতে কোনো টাকা না থাকায় মার্কেটিং বা অন্য কোনো জরুরি খাতে খরচ করার সুযোগ ছিল না। তাই আপনার মোট বাজেটকে অবশ্যই কয়েকটি ভাগে ভাগ করতে হবে। তিনি তাঁর বাজেটকে মূলত পাঁচটি ভাগে ভাগ করেন:

  • প্রোডাক্ট রিসার্চ: সঠিক পণ্য খুঁজে বের করার জন্য বিনিয়োগ করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
  • প্রোডাক্ট কেনা: বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ এখানে খরচ হবে।
  • মার্কেটিং: পণ্য যতই ভালো হোক, মার্কেটিং ছাড়া বিক্রি হবে না। ফাইয়াজ ফয়সালের 'ড্রিম সুপার শপ' বন্ধ হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল যে তিনি এর জন্য কোনো মার্কেটিং বাজেটই রাখেননি, শুধু কিছু অর্গানিক কনটেন্ট তৈরি করেই ভেবেছিলেন ব্যবসা সফল হবে।
  • রিস্ক ম্যানেজমেন্ট: ভবিষ্যতে ব্যবসায় কোনো অপ্রত্যাশিত ক্ষতি বা মন্দা দেখা দিলে সেই ধাক্কা সামলানোর জন্য একটি ফান্ড রাখা আবশ্যক।
  • দৈনন্দিন বা পরিচালন খরচ (Operational Costs): কর্মী বা নিজের বেতন, অফিস ভাড়া এবং অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ মেটানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আলাদা করে রাখতে হবে।

এর পেছনে শুধু মার্কেটিং বাজেটের অভাবই ছিল না, বরং মার্কেটিং সামলানোর মতো কোনো পার্টনার বা টিম মেম্বার না থাকাও একটি বড় কারণ ছিল। এটিই আমাদের চতুর্থ মূলনীতিতে নিয়ে আসে।

মূলনীতি ৪: একা নন, সঠিক পার্টনারই ব্যবসার মূল শক্তি

ব্যবসা একা চালানো প্রায় অসম্ভব। প্রোডাক্ট রিসার্চ, সেলস, মার্কেটিং—এতগুলো দিক একা সামলানো কঠিন। এজন্য আপনার একজন সঠিক পার্টনার বা যোগ্য কর্মীর প্রয়োজন, যিনি আপনার কাজে সাহায্য করতে পারবেন। ফাইয়াজ ফয়সাল তাঁর সব ব্যবসাই পার্টনারের সাথে করেন।

একটি সফল পার্টনারশিপের মূল দর্শন হলো: "আমি আমার পার্টনারকে জিতিয়ে দিতে চাই।" কারণ যখন আপনার পার্টনার জিতবে, তখন আপনার ব্যবসা জিতবে এবং চূড়ান্তভাবে আপনিও জিতবেন।

এই বিষয়ে একটি শক্তিশালী আধ্যাত্মিক বিশ্বাসও রয়েছে। বলা হয়, যখন দুজন পার্টনার সততার সাথে ব্যবসা করে, তখন মহান আল্লাহ তাআলা তাদের তৃতীয় পার্টনার হয়ে যান এবং ব্যবসায় বরকত দেন। কিন্তু যখনই তাদের মধ্যে অসততা প্রবেশ করে, তৃতীয় পার্টনার চলে যান এবং ব্যবসা থেকে বরকত উঠে যায়।

"সূরা মায়েদায় মহান আল্লাহ তাআলা বলেন তোমরা একে অপরকে সৎ কাজে সাহায্য করো।"

শেষ কথা: উদ্যোগ আপনার, রিজিক আল্লাহর

সংক্ষেপে, ব্যবসা শুরুর চারটি স্তম্ভ হলো: একটি দৃঢ় সিদ্ধান্ত, সঠিক পণ্য নির্বাচন, স্মার্ট আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং সঠিক পার্টনার খুঁজে বের করা। এই চারটি স্তম্ভকে যদি ভিত্তি হিসেবে ধরে এগোতে পারেন, তবে আপনার যাত্রাও মসৃণ হবে। সবশেষে, ফাইয়াজ ফয়সালের বলা মূল দর্শনটিই মনে রাখবেন:

"উদ্যোগ আপনার হাতে, রিজিক আল্লাহর হাতে। এই দুটি যখন একসাথে হয়, তখন ব্যবসায় বরকত আসে।"

ফাইয়াজ ফয়সাল নিজেও এই চারটি নীতি মেনেই তাঁর ষষ্ঠ ব্যবসাটি শুরু করছেন। চলুন আমরা তাঁর জন্য শুভকামনা জানাই। আর এই লেখাটি আপনার সেই বন্ধুর সাথে শেয়ার করুন, যে একটি নতুন ব্যবসা শুরু করার স্বপ্ন দেখছে।




নতুন ব্যবসা শুরু করার আগে ভিডিওটি একবার দেখুন! | How to start A Business



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url